এক সিভিলিয়ান এর আত্মকথা

A. A. M. Yusuf
(এ. এ. এম. ইউসুফ)
প্রাক-কথন
দীর্ঘদিন
ধরে
আমার
অত্মজীবনীমূলক
এই
গ্রন্থটি
পুনঃ
মুদ্রণের
তাগিদ
পেয়ে
আসছিলাম।
তাগিদ
যেমন
পাঠকের
কাছ
থেকে
তেমনি
আমার
নিজের
কাছ
থেকেও।
পাঠকের
মধ্যে
কেউ
কেউ
গ্রন্থটির
নাম
একটু
দুর্বোধ্য
মনে
করে
পরিবর্তনের
পরামর্শও
দিয়েছেন।
বস্তুতঃ
নামকরণের
কাজটি
সম্পন্ন
করতে
আমার
অনেক
দ্ধিধাদ্ধন্দ্ব
ভোগান্তি
পোহাতে
হয়েছিল।
এর
কিছুটা
এ
জন্য
যে,আমি
কোন
খ্যাতিমান
ব্যক্তি
নই
কিংবা
একজন
সুলেখক
হিসাবেও
কোন
পরিচিতি
নেই।
তাই
আমি
আমার
মাপের
সাযুজ্য
একটি
বিষয়
ভিত্তিক
নাম
সাব্যস্ত
করেছিলাম
‘অর্পিত
ক্ষমতা
বনাম
অর্জিত
ক্ষমতা’।
পুনঃ
মুদ্রণে
আমার
স্মৃতির
ভিন্ন
চারটি
নতুন
অধ্যায়
এই
গ্রন্থে
সংযোগ
করার
সুযোগ
হয়েছে।
গ্রন্থের
নাম
পরিবর্তনের
কয়েকটি
প্রসিদ্ধ
দৃষ্টান্ত
আমাকে
একজন
শুভানুধ্যায়ী
দেখিয়েছেনও।
কিন্তু
অনেক
অনেক
কসরত
করেও
যুৎসই
ভিন্ন
নাম
নির্মাণ
করতে
সমর্থ
হইনি।
শেষমেষ
নামের
দুর্বোধ্যতা
দূর
করার
উদ্দেশ্যে
“এক
সিভিলিয়ানের
আত্মকথন”
নাম
নির্মাণ
সাব্যস্ত
করা
হল।
পুনঃ প্রকাশের জন্য প্রথম প্রকাশক সুহৃদ রুহুল আমিন বাবুলকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে না পেয়ে নতুন প্রকাশকের দ্বারস্থ হয়েছি। এ ব্যাপারে সুজন আহমেদ মাহমুদুল হক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাকে বাধিত করেছেন। নাম চয়নের কসরতে একাত্ম হয়ে অংশীদার হয়েছেন আমার নিকটতম আত্মীয় জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর। গ্রন্থটির উপর প্রকাশিত মতামত পুনঃ মুদ্রণে হুবহু বা সংক্ষেপিত করে জুড়ে দিলাম। গ্রন্থটির পৃষ্ঠা সংখ্যা বৃদ্ধি, উন্নতমানের কাগজ ব্যবহার ও প্রচ্ছদ পরিবর্তনের কারণে মূল্য বৃদ্ধি এড়ানো গেলোনা। আমি নিশ্চিত, আমার সহৃদ পাঠক এই মূল্যবৃদ্ধি যুক্তিযুক্ত বলে মেনে নিবেন।
অভাস
কখনো
একজন
গ্রন্থকার
হবো
একথা
ভাবিনি।
আমি
বরং
বরাবরই
একজন
কর্মীর
ভূমিকায়
স্বাচ্ছন্দ
বোধ
করে
এসেছি।
আমার
কাজের
সাথে
সম্পৃক্ত
নয়
এমন
অন্য
কারো
কাজ
নিয়ে,
এমনকি
দেশের
রাজনীতির
হালচাল
নিয়ে
আলাপ
আলোচনায়
লিপ্ত
হয়ে
আমি
কখনই
নিজের
বা
অন্যের
কর্ম
সময়ের
নিরর্থক
অপচয়
করিনি।
কেবল
আমার
উপর
ন্যস্ত
কাজটুকু
দ্রুত
সম্পাদনকেই
লক্ষ্য
হিসাবে
নির্দিষ্ট
করেছি।আমি
মনে
করি
নিজ
নিজ
দায়িত্ব
দ্রুত
সম্পাদনকারী
দেশের
সর্বনিম্ন
থেকে
সর্বোচ্চ
পদের
কর্মজীবী
সমান
ও
সমমাপের
দেশ
প্রেমিক।
একজন
কর্মী
তাঁর
দায়িত্ব
পালন
করেন
ক্ষমতা
ব্যবহার
করে।
সে
ক্ষমতা
যা
তাঁকে
অর্জন
করেছেন।
এই
গ্রন্থে
আমি
অর্পিত
ও
অর্জিত
ক্ষমতার
স্বরুপ
তুলে
ধরেছি।
কিন্তু
কেবল
অর্জিত
ক্ষমতা
বলে
সম্পাদিত
কর্ম
অবলম্বনে
নির্মিত
গল্প-কথাগুলি
গেঁথে
দিয়েছি।
তাই
এটি
কোন
নিছক
স্মৃতিচারণমূলক
গ্রন্থ
নয়-এতে
পাঠকের
জন্য
সজীব
কিছু
ম্যাসেজই
মুখ্য।
ফলে
এই
গ্রন্থে
বহু
ব্যক্তিগত
ঘটনা
ও
ঘনিষ্টজনের
নাম
এলো
না
বলে
আমি
নিজেই
ক্ষুব্ধ।
এই
গ্রন্থের
রচনার
শুরু
সুদূর
আমেরিকার
মায়াবী
শহরে
বসে।
সেখানে
স্থায়ীভাবে
বসবাসরত
আমার
পুত্র
মোহাম্মদ
দৌলতানা
প্রতিদিন
খোঁজখবর
করেছে
এবং
সময়
পেলেই
পড়ে
আমাকে
উৎসাহিত
করেছে।
গ্রন্থটি
লেখা
শেষ
হয়েছে
নিউইয়র্ক
শহরে
ছোট
মেয়ে
পারভিনের
বাসায়
বসে।
পান্ডুলিপি
চূড়ান্ত
করতে
গিয়ে
ব্যক্তি
ও
স্থানের
নামজনিত
তথ্য
ঘাটতি
পূরণে
সহায়তা
করেছেন
অনেকে,
তাঁদের
সকলের
প্রতি
অশেষ
কৃতজ্ঞতা।
কেবল
কমিউনিকেশন
গ্যাপ
পূরণ
করা
সম্ভব
হলো
না
বলে
আরও
কিছু
নাম
গ্রন্থে
উল্লেখ
করা
গেল
না
বলে
মনে
যন্ত্রণা
থেকে
গেল।
এই
প্রসঙ্গে
বিশেষ
স্মর্তব্য
মায়াবী
মেইন
পাবলিক
লাইব্রেরির
সহকারী
গ্রন্থগারিক
Mrs, Teresa Lynn Barnard-এর
নাম।
কী
আন্তরিকতার
সঙ্গে
তিনি
তাঁর
কাজের
অবসরে
আমার
কাছে
এসে
বসেছেন
এবং
খসড়া
রচনার
তাৎক্ষণিক
অনুবাদ
শোনার
আগ্রহ
প্রকাশ
করেছেন।
আমার
অনুজ
কবি
বেলাল
মোহাম্মদ
পান্ডুলিপির
ফটোকপি
পাঠ
শেষে
খবর
পাঠিয়েছিল
ওটা
৬
মাস
ফেলে
রাখতে
এবং
ভুলে
যেতে।
ফেলে
রাখা
এবং
ভুলে
যাবার
জন্য
একটা
ক্ষেত্রও
সৃষ্টি
হয়েছিল।
৬
মাস
পর
নিজেই
অনুভব
করলাম
কঠোর
হয়ে
রি-রাইট
করতে
হবে।
আরও
৬
মাসে
পুনর্বার
লেখার
কষ্টকর
কাজটি
সম্পন্ন
করা
গেল।
একাজে
সহযোগিতা
করেছিল
আমার
পুত্রবধূ
শামিমা
খান।
শ্রমজীবী
অনোয়ারা,
বেদানা
ও
বিলকিস
(আমি
বলতাম
আনার
বেদানা
কিসমিস)এই
তিনজন
জোট
বেঁধে
একদিন
বলল,
তারা
আমার
পুত্রবধূর
নির্দেশ
মত
আমার
দিকে
এতো
যে
কানখাড়া
রাখলো
সে
কথাটা
যেনো
আমার
বইতে
লেখা
হয়।
আমি
বললাম,
তোমরা
লেখাপড়া
জানো
না
বলেই
কেউ
আর
তোমাদের
কথা
লেখেন
না।তোমাদের
মধ্যে
এই
অধিকার
বোধটি
যখন
জেগেছে,
নিশ্চয়ই
তোমাদের
নাম
আমার
বইতে
লেখা
হবে।
লেখাপড়া
শিখে
নিও
যেন
পড়ে
দেখতে
পার।
কথাগুলো
বলেই
মনে
পড়লো
কি
দারুণ
সত্য
কথাটি
বলে
গেছেন
আমেরিকার
নিহত
কৃষ্ণাঙ্গ
নেতা
Malcom-X
তাঁর
আত্মজীবনীতেঃ
“I would Think to myself that Wilfred,(তাঁর
জ্যোষ্ঠ
ভ্রাতা)
for being so nice and quiet often stayed hungry. So early in life, I had
learned that if you want something, you had better make some noise.”
রি-রাইট
করা
পান্ডুলিপি
আগ্রহ
ভরে
পাঠ
করলেন
শ্রদ্ধেয়
কবি
মোকসেদ
আলী
ও
রিজিয়া
খাতুন
দম্পতি;
সুহৃদ
হায়দার
আলী,
হেমায়েত
উদ্দিন
আহমেদ,
মীর
আফতাব
উদ্দিন
আহমদ;
সুজন
মুহাম্মদ
নজরুল
ইসলাম,
এ
কে
এম
আনসারুল
হক।
ওরা
কেউ
কেউ
কিছু
তথ্য
ও
কিছু
কথা
সংশোধন
করে
দিয়েছেন
এবং
সকলেই
শীঘ্রই
গ্রন্থটি
প্রকাশিত
হোক
এরুপ
উষ্ণ
শুভেচ্ছা
ব্যক্ত
করেছেন।
তবুও
সংশয়
কাটতে
চায়
না।
আমার
সময়ের
মূল্যবোধ
আর
আজকের
পরিবর্তিত
দেশকালের
উপলব্ধি
তো
এক
নয়।
নতুন
প্রজন্মের
কর্মীরা
কিভাবে
মূল্যায়ন
করবে
অতিক্রান্ত
কালকে!
আমি
আশাবাদী,
সমকালের
দৈন্যদশা
কাটিয়ে
আজকের
বিশ্বায়নের
কর্মীরাই
ওড়াবে
ঐ
নতুনের
কেতন।
আমারও
ইচ্ছা
সুস্থ
জীবনের
পিঠে
চড়ে
আরো
দীর্ঘ
পথ
ওদের
সাথে
সাথে
চলবার।
বিদগ্ধ
পাঠক
এই
গ্রন্থটি
একটি
উপন্যাস
মনে
করেও
পড়তে
পারেন।
সে
ক্ষেত্রে
উপন্যাসের
নায়ক
আমি
নই;
একজন
‘কর্মী’।
আর
নায়িকাও
সফিনাজ
নয়;
‘সফিনাজের
সতীন’।
সতীনটির
পরিচয়
সফিনাজই
তাঁর
রচিত
রম্য
রচনা
গ্রন্থ
‘গরমিল;
(১৯৮৪)-এর
শেষ
৪
লাইন
দিয়ে
গেছেনঃ
“হ্যাঁগো,রিটায়ার
করেছ
বলে
মন
খারাপ
করেছো?
ভালই
হয়েছে,
আপদ
বিদেয়
হয়েছে।
আমার
সতীন
তোমাকে
ছেড়ে
গেছে,
আমি
ছাড়তে
পারলাম
কৈ?
সতীন
তো
এখন
নতুন
মানুষ
নিয়ে
ব্যস্ত।”
এ.এ.এম. ইউসুফ
